সংশয় নিরসন

ইমাম আবু হানিফা রাহ. কি সত্যিই মুরজিআ ছিলেন?

#ভূমিকাঃ মুরজিআ একটি বিভ্রান্ত ও বেদআতি ফেরকার নাম। এরা আবার বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত। তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ বক্তব্য হচ্ছে: “পাপাচার ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয়, যেভাবে কুফরি থাকলে নেককাজ কোনো উপকারী নয়।” আহলেসুন্নাহ ওয়াল-জামাআত সর্বসম্মতিক্রমে এ মতবাদকে ভ্রান্ত ও বেদআত মনে করেন। ইমাম আবু হানিফা রাহ. থেকেও এমন কোনো বক্তব্য নেই। তবে ঈমানের ‘হকিকত’ নিয়ে জুমহুর আয়িম্মা ও আবু হানিফার মাঝে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। #বিরোধের সূত্রপাতঃ জুমহুরের মতে ঈমান হচ্ছে মুরাক্কা বা যৌগিক। অন্তরের বিশ্বাস-আমল-কর্ম ও মৌখিক স্বীকারোক্তি, তিনের সমন্বিত রূপের নাম ঈমান। আর আবু হানিফার মতে অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস এবং মৌখিক স্বীকারোক্তির নামই ঈমান। কিন্তু আমল ঈমানের মৌলিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা ঈমানের মুকাম্মিল বা পরিপূরক। আর এ বিরোধকে আমি লফজি-শাব্দিক বিরোধ মনে করি। বাস্তবিক অর্থে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধই নেই। কিন্তু যারা এ বিরোধকে হাকিকি বিরোধ মনে করেন এবং আমলকে ঈমানের ‘রুকনে আসলি’ তথা মৌলিক অংশ জ্ঞান করেন, তাদের ওপর বেশকিছু আপত্তি উত্তাপিত হয়। সে আপত্তি, তার জবাব ও পাল্টা জবাবের প্রেক্ষিতে আমরা প্রমাণ করব — এ বিরোধ স্রেফ লফজি। #আপত্তিঃ ‘আমল’ যদি ঈমানের ‘রুকনে আসলি’ তথা মৌলিক অংশ হয়, তাহলে ভ্রান্ত খারেজি কিংবা মু’তাযিলিদের মাজহাব গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ, রুকনের কোনো ফরদ/ন্যূনতম অংশ ছেড়ে দেয়া মানে ব্যক্তি কাফের হওয়া সুনিশ্চিত। অর্থাৎ কেউ মাঝেমধ্যে সালাত পরিহার করলে বা যাকাত না-দিলে কিংবা সিয়াম ভঙ্গ করলে কাফের হয়ে যাওয়ার কথা। এখন যদি বলেন ‘এ ক্ষেত্রে সে (এসব আমলে কমতি থাকায়) কাফের এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত’, তবে তা হবে খারেজিদের মাজহাব। আর যদি বলেন ‘সে কাফেরও না আবার মুসলিমও না’, (منزلة بين المنزلتين) তাহলে তা হবে মু’তাযিলিদের মাজহাব। আর এ উভয় মাজহাবই আহলে সুন্নাহর নিকট নিকৃষ্ট বেদআত। তাঁরা যুগে যুগে এদের রদ্দ করে এসেছেন। এ আপত্তি থেকে বাঁচতে জুমহুরের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমল ঈমানের অংশ বলতে ‘জিনসে আমল’ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ব্যক্তি যদি আমল সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে, তবেই সে কাফের হবে, কিছু কমতির ফলে কাফের হবে না। খারেজি আর মু’তাযিলিদের সঙ্গে তাঁদের পার্থক্য এখানেই। তবে, এ জবাব খুরুজ আর ই’তেযাল থেকে বাঁচাতে পারলেও তা সহিহ ও সরিহ অনেক হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেগুলোতে আমলবিহীন অনেক মানুষ জান্নাতে যাওয়ার কথা বিবৃত হয়েছে। যেমনঃ

August 02 2025

91

সংশয় নিরসন

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা: “ইমাম” “ওয়ালিয়ুল আমর” “রাষ্ট্রপ্রধান” “সরকার”

বর্তমান ইলমি ও ফিকরি ময়দানে অন্যতম একটি সংকট হল পরিভাষা সংক্রান্ত। পরিভাষাকে এড়িয়ে গিয়ে আমরা শব্দের মারপ্যাঁচে নিজেদের মূল্যায়নকে ক্রিয়েট করছি। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা কিংবা অন্য কোন মতবাদের পরিভাষা- উভয়ক্ষেত্রেই সমভাবে আমরা এই ভুলটি করে যাচ্ছি। ফলে একদিকে ইসলামী শরীয়তের নানা বিধান বিকৃতি সাধন হচ্ছে। যেমন জিহাদ, কিতাল, ইমামাত, খিলাফাত ইত্যাদি শর’য়ী বিষয়। অন্যদিকে বহিরাগত কুফুরি মতাদর্শ ইসলামে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। যেমন গণতন্ত্র, সেকুলারিজম ইত্যাদি পশ্চিমা আদর্শ। কুরআন সুন্নাহ এবং ফিকহের কিতাবগুলোতে বর্ণিত “ইমাম” কিংবা “ওয়ালিয়ুল আমর” নিছক কোন শব্দ নয়। এগুলো হল শর’য়ী পরিভাষা। এই পরিভাষাগুলোর সাথে ইসলামী শরীয়তের অনেক বিধান সম্পৃক্ত। নিছক শাব্দিক দৃষ্টিকোণ থেকে “রাষ্ট্রপ্রধান” কিংবা “সরকার” অর্থ তুলে এর পারিভাষিক বিধানকে প্রয়োগ করা ইলমি খিয়ানত। ইসলামী শরীয়তে পারিভাষিকভাবে যাকে ইমাম বলে বর্তমান রাষ্টপ্রধানদের উপর তা কার্যকর হয় না।

December 14 2023

197

সংশয় নিরসন