সংশয় নিরসন
ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা: “ইমাম” “ওয়ালিয়ুল আমর” “রাষ্ট্রপ্রধান” “সরকার”
আবু আব্দুল্লাহ | December 14 2023 | 218বর্তমান ইলমি ও ফিকরি ময়দানে অন্যতম একটি সংকট হল পরিভাষা সংক্রান্ত। পরিভাষাকে এড়িয়ে গিয়ে আমরা শব্দের মারপ্যাঁচে নিজেদের মূল্যায়নকে ক্রিয়েট করছি। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষা কিংবা অন্য কোন মতবাদের পরিভাষা- উভয়ক্ষেত্রেই সমভাবে আমরা এই ভুলটি করে যাচ্ছি। ফলে একদিকে ইসলামী শরীয়তের নানা বিধান বিকৃতি সাধন হচ্ছে। যেমন জিহাদ, কিতাল, ইমামাত, খিলাফাত ইত্যাদি শর’য়ী বিষয়। অন্যদিকে বহিরাগত কুফুরি মতাদর্শ ইসলামে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে। যেমন গণতন্ত্র, সেকুলারিজম ইত্যাদি পশ্চিমা আদর্শ।
কুরআন সুন্নাহ এবং ফিকহের কিতাবগুলোতে বর্ণিত “ইমাম” কিংবা “ওয়ালিয়ুল আমর” নিছক কোন শব্দ নয়। এগুলো হল শর’য়ী পরিভাষা। এই পরিভাষাগুলোর সাথে ইসলামী শরীয়তের অনেক বিধান সম্পৃক্ত। নিছক শাব্দিক দৃষ্টিকোণ থেকে “রাষ্ট্রপ্রধান” কিংবা “সরকার” অর্থ তুলে এর পারিভাষিক বিধানকে প্রয়োগ করা ইলমি খিয়ানত। ইসলামী শরীয়তে পারিভাষিকভাবে যাকে ইমাম বলে বর্তমান রাষ্টপ্রধানদের উপর তা কার্যকর হয় না। কারণ:
এক- ইমামাত বা শরয়ী নেতৃত্বের শর্তসমূহ তারা পূরণ করেনি। যেমন শরয়ী জ্ঞান থাকা, ন্যায়পরতা ইত্যাদি। ইমামতের শর্তসমূহ জানার জন্য শায়েখ মাওয়ারদি রহঃ এর আহকামুস সুলতানিয়া দেখা যেতে পারে।
দুই- এদের জন্য শরয়ী বাইয়াত সংঘটিত হয়নি। আর শরয়ী বাইয়াত তাকেই বলে যার ভিত্তি কিতাব এবং সুন্নাহর উপর। যেমন বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে,
ٱن إبن عباس كتب إلى عبد الملك مروان يبايعه “ و ٱقر لك بالسمع و الطاعة على سنة الله و سنة رسوله
ইবনে আব্বাস রাঃ খলীফা আব্দুল মালেক বিন মারওয়ান কে বাইয়াত প্রদান করে একটি চিঠি লিখেন, ( যার মধ্যে ছিল) আমি আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলের সুন্নাহ বাস্তবায়নের শর্তে আপনার আনুগত্য স্বীকার করে নিচ্ছি।
( বুখারী- ৭২৭২)
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন,
و الٱصل في مبايعة الإمام ٱن يبايعه على ٱن يعمل بالحق و يقيم الحدود و يٱمر بالمعروف و ينهي عن المنكر।
ইমামের বাইয়াতের মূল কথা হচ্ছে, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা এই শর্তে যে, সে শরীয়াহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে,হদ- কিসাস বাস্তবায়ন করবে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাঁধা প্রদান করবে।
( ফাতহুল বারী- ১২/২০৩)
মোট কথা মুসলমানদের ইমাম শরীয়াহ বাস্তবায়নের শর্তে মুসলমানদের কাছ থেকে বাইয়াত নিবে। আর বর্তমান শাসকরা রাষ্ট্রপ্রধানের আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার সময় এই শপথ করে যে, সে মানব রচিত বিধান তথা গণতন্ত্র, সেকুলারিজম ইত্যাদি কুফুরী মতবাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
তিন- ইমামতের যেই সব দায়িত্ব রয়েছে, তার একটিও এরা বাস্তবায়ন করছে না। যেমন হুদুদ বাস্তবায়ন করা,জিহাদ পরিচালনা করা ইত্যাদি। যেগুলো আল্লামা মাওয়ারদি রহঃ তাঁর আহকামুস সুলতানিয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
এরা বরংচ এসব হুদুদকে বর্বর বিধান হিসেবে সাব্যস্ত করছে, জিহাদকে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। তাওহীদের আওয়াজ উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে লড়ছে। মোট কথা এরা সামগ্রিকভাবে দ্বীনের সংরক্ষণ না; ধ্বংস করছে।
মোট কথা ইমামুল মুসলিমীন এটি একটি পরিভাষা। যা ঐ মুসলিম ইমামের উপর প্রযোজ্য যিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি রাখেন ইসলামী শরীয়ার উপর। ঐ সব শাসকের ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ বিকৃতি সাধন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি রেখেছে কুফুরী মতাদর্শের উপর।
- Mawlana Iftekhar sifat Hafi.
রাসুল (সাঃ) বদদোয়া করেছেন?
December 14 2023
366
করযে হাসানা : কিছু নির্দেশনা
December 05 2023
310
বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?
December 01 2023
309
কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?
December 11 2023
303
‘এরা এমন এক কালসাপ, যার বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলা না হলে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডেও ছোবল বসাবে’
December 02 2023
270
ফিলিস্তিন সংকট : স্বদেশ ও বিদেশ
December 03 2023
269
গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!
December 01 2023
251
কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান
December 14 2023
251
হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
December 05 2023
239
ঈদের নামায স্থানীয়ভাবে আদায় করবো? না সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে?
December 03 2023
236