দ্বীনিয়াত ও শিক্ষা
কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান
আবু আব্দুল্লাহ | December 14 2023 | 233হিজরত সম্পর্কিত আয়াতসমূহে তিন রকমের বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়েছে।
১. হিজরতের ফযীলত,
২. হিজরতের দুনিয়া ও আখেরাতের বরকত ও
৩. সামর্থ্য থাকা সত্বেও দারুল-কুফর থেকে হিজরত না করার কারণে শাস্তিবাণী।
মহান আল্লাহ বলেন,
'নিশ্চয় যারা নিজদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে’? তারা বলে, ‘আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম’। ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে’? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।' (সূরা নিসা ৯৭)
“রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যেসব মুসলিম মুশরিকদের সঙ্গে ছিল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল, মাঝে মাঝে এমনও হত যে, তাদের কেউ কেউ মুসলিমদেরই তীরের আঘাতে নিহত হতো বা তাদেরকে হত্যা করা হত। তখন আল্লাহ তা‘আলা -
(إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ)
আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৫৯৬)
এ আয়াতে যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হিজরত করে না তাদেরকে তিরস্কারের সাথে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সুতরাং কাফিরদের দেশ থেকে হিজরত করা ফরয, যেখানে ইসলামের নিয়ম-নীতি অনুযায়ী আমল করা যায় না এবং যেখানে থাকলে কুফরীর দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” (ফাতহুল মাজীদ, সূরা আন নিসা ৪/৯৭)
“আয়াত থেকে প্রথমতঃ জানা যায় যে, অবস্থা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ইসলামের কোন কোন আমল (ত্যাগ করা) কুফরী পর্যায়ে পৌঁছে যায় অথবা (পালন করলে) ইসলাম গণ্য হয়। যেমন, এই সময়ে হিজরত করাই ইসলাম গণ্য হয়েছে এবং তা ত্যাগ করা প্রায় কুফরীর আওতাভুক্ত গণ্য করা হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ জানা যায় যে, এমন কাফের দেশ থেকে হিজরত করা ফরয, যেখানে ইসলামের নিয়ম-নীতি অনুযায়ী আমল করা কঠিন হয় এবং যেখানে থাকা কুফরী ও কাফেরদের উৎসাহ লাভের কারণ হয়।” (আহসানুল বায়ান, সূরা আন নিসা ৪/৯৭)
“বদরের যুদ্ধে যখন তারা (মুসলিমরা) মুশরিকদের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয় তখন মুসলিমদের হাতে তাদের কয়েকজন লোক মারা যায়। ফলে মুসলিমরা অত্যন্ত দুঃখিত হয়ে বলেঃ ‘আফসোস! এরা তো আমাদের ভাই ছিল, অথচ এরা আমাদেরই হাতে মারা গেল। তারা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। হযরত ইকরামা (রঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি কুরাইশের ঐ লোকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যারা ইসলামের কালেমা পাঠ করেছিল এবং মক্কাতেই ছিল।
আয়াতের হুকুম হচ্ছে সাধারণ। প্রত্যেক ঐ ব্যক্তির জন্যেই এ হুকুম প্রযোজ্য- যে হিজরত করতে সক্ষম অথচ মুশরিকদের মধ্যে পড়ে থাকে এবং দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকে না। সে আল্লাহ তা’আলার নিকট অত্যাচারী। এ আয়াতের ভাব হিসেবে এবং মুসলমানদের ইজমা হিসেবেও সে হারাম কার্যে লিপ্ত হওয়ার দোষে দোষী। এ আয়াতে হিজরত করা ছেড়ে দেয়াকে অত্যাচার বলা হয়েছে। এ প্রকারের লোকদেরকে তাদের মৃত্যুর সময় ফেরেশতাগণ জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমরা এখানে পড়ে রয়েছে কেন? কেন তোমরা হিজরত করনি? তারা উত্তর দেয়,“আমরা নিজেদের শহর ছেড়ে অন্য কোন শহরে চলে যেতে সক্ষম হইনি।” তাদের এ কথার উত্তরে ফেরেশতাগণ বলেন-“আল্লাহ তাআলার পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না?’ (ইবনে কাসীর, সূরা আন নিসা ৪/৯৭)
‘কোনো ব্যক্তির যদি স্বীয় মুসলিম দেশে জান ও মালের নিরাপত্তা থাকে তথা কোনোরূপ অপরাধ ব্যতীত গ্রেপ্তারি বা জেলে যেতে না হয়, কিংবা তার মালামাল ক্রোক করা না হয়, এবং এতটুকু জীবিকা উপার্জনের ব্যবস্থা থাকে, যতটুকু দ্বারা সে নিজ শহরের স্টাটাস অনুযায়ী চলতে পারে। তবে শুধুমাত্র জীবনসামগ্রীর আরো উন্নতি, আরো স্বচ্ছলতা-স্বাচ্ছন্দ, দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতার উদ্দেশ্যে কোনো অমুসলিম দেশে যেতে চায়, এসব উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়া নাজায়েজ। কেননা, এক্ষেত্রে ইহকালীন পরকালীন কোনো প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার অশ্লীলতা বেহায়াপনায় নিজেকে নিজে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর বিনা প্রয়োজনে নিজের দ্বীন-ধর্ম, আখলাক-চরিত্র ইত্যাদিকে এক ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয়া কোনো অবস্থাতেই সঠিক হতে পারে না।’ এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা হলো- ‘যারাই শুধুমাত্র সুখী, সমৃদ্ধি, ভোগ-বিলাসিতার উদ্দেশ্যে কোনো অমুসলিম দেশে বসবাস করছে, তাদের ধর্মীয় চেতনা একেবারে দুর্বল হয়ে যায়। এধরনের লোকেরা কুফরী পরিবেশে থেকে সেখানকার কালচারে উজ্জীবিত হয়ে যায়।’ [মূলঃ মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী (হাফিঃ), প্রবন্ধঃ ‘অমুসলিম দেশে বসবাস’]
এসমস্থ কারণে পবিত্র হাদীস শরীফে অত্যন্ত প্রয়োজন ব্যতীত, অমুসলিমদের সাথে বসবাস করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন-
জারীর আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
«أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ الْمُشْرِكِينَ»
‘আমি ঐসব মুসলিমের উপর অসন্তুষ্ট ও রুষ্ট যারা মুশরিকদের মধ্যে অবস্থান করে।’ (বুলুগুল মারাম ১২৬৪, মান: সহিহ)
সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
“مَنْ جَامَعَ الْمُشْرِكَ وَسَكَنَ مَعَهُ فَإِنَّهُ مِثْلُهُ”
‘কেউ কোন মুশরিকের সাহচর্যে থাকলে এবং তাদের সাথে বসবাস করলে সে তাদেরই মত।’ (আবু দাউদ ২৭৮৭, মান: সহিহ)
জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
“أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ” . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِمَ قَالَ ”لاَ تَرَايَا نَارَاهُمَا” .
‘মুশ্রিকদের সাথে যে সকল মুসলমান বসবাস করে আমি তাদের দায়িত্ব হতে মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! তা কেন? তিনি বললেনঃ ইসলামের অগ্নি এবং কুফরীর অগ্নি উভয়টি এক সাথে থাকতে পারেনা। কোনটি মুসলমানের আগুন, কোনটি অমুসলিমের আগুন তোমরা তা পার্থক্য করতে পারবেনা।’ (জামে’ আত-তিরমিজি ১৬০৪, মান: সহিহ)
আল্লামা খাত্ত্বাবী (রহ.) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তিরমিজির বর্ণনার এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, “একেক জনে এর ব্যাখ্যা একেক রকম করেছে। কারো কারো নিকট এর ব্যাখ্যা হলো, মুসলিম এবং অমুসলিম বিধানের দিক থেকে এক হতে পারেনা বরং উভয়ের আহকাম ভিন্ন। কেউ কেউ বলেন, এই হাদীসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলা দারুল ইসলাম এবং দারুল কুফরকে পৃথক পৃথক করে দিয়েছেন। সুতরাং কোনো মুসলমানের জন্য অমুসলিমদের দেশে বসবাস করা জায়েয নেই। কেননা, অমুসলিমরা যখন আগুন জ্বালাবে, সেসময় যেসব মুসলমান তাদের সাথে থাকবে, মনে হবে তারাও অমুসলিমদের অন্তর্ভূক্ত। ওলামায়ে কিরামের ব্যাখ্যা দ্বারা একথাও প্রতীয়মান হয় যে, কোনো মুসলমান ব্যবসার উদ্দেশ্যেও যদি অমুসলিমদের দেশে গমন করে, তাহলে তার জন্য সেখানে বিনা প্রয়োজনে বেশি দিন বসবাস করা মাকরূহ। (মা‘আলিমুস সুনান লিল খাত্ত্বাবী ঃ ৩/৪৩৭)
সামুরা ইবনু জুনদাব (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
“لَا تُسَاكِنُوا الْمُشْرِكِينَ وَلَا تُجَامِعُوهُمْ فَمَنْ سَاكَنَهُمْ أَوْ جَامَعَهُمْ فَهُوَ مِثْلُهُمْ”
‘মুশরিকদের সাথে তোমরা একত্রে বসবাস কর না, তাদের সংসর্গেও যেও না। যে মানুষ তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা তাদের সংসর্গে থাকবে সে তাদের অনুরূপ বলে বিবেচিত হবে।’ (জামে’ আত-তিরমিজি ১৬০৫, মান: নির্ণীত নয়)
কাফেরদের দেশের লোকদের জন্য: ‘আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত পালনে বাধাপ্রাপ্ত হলে হিজরত করা ওয়াজিব। হিজরত করা ওয়াজিব হলে তা বর্জন করা কবীরা গুনাহ। তবে শরীয়তসম্মত ওযর থাকলে ভিন্ন কথা।’ (ফাতহুল মাজীদ, সূরা আন নিসা ৪/৯৭)
কাফের ভূমি থেকে হিজরত করতে অপারগ প্রসঙ্গে,
إِلاَّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاء وَالْوِلْدَانِ لاَ يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلاَ يَهْتَدُونَ سَبِيلاً
‘তবে যেসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু কোন উপায় অবলম্বন করতে পারে না’ (নিসা ৯৮) — অর্থাৎ উপরে উল্লিখিত শাস্তির আওতাধীন তারা নয় যারা- দুর্বল অসহায় নারী পুরুষ ও শিশু। যারা কোন উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোন পথও খুঁজে পায় না, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা যাদের অক্ষমতা কবুল করেন আমার মাতা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৫৯৭)” (ফাতহুল মাজীদ, সূরা আন নিসা ৪/৯৭)
ইসলামের সাথে যুদ্ধরত কাফির দেশসমূহে টুইন টাওয়ার হামলার মতো হামলার আশঙ্কায় সেখানে মুসলিমদের অবস্থান করার প্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্য -
অমুসলিম দেশে ৯/১১ এর মত হামলার মাসালা হল- ‘যদি হামলা করা জরুরী হয়ে পরে, কাফিররা যদি ঐ স্থানে থাকা মুসলিমদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে আর কুফফারদের দল থেকে যদি মুসলিমদের আলাদা করা সম্ভব না হয়, তবে ইমামদের বক্তব্য অনুসারে তাদেরসহ কুফফারদের উপড়ে হামলা করা বৈধ। পরকালে তারা যার যার নিয়ত অনুযায়ী উঠবে। মুসলিমরা সেখানে অবস্থান করে বলে জিহাদ বন্ধ রাখা হবে না। জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি যে অন্যান্য বিষয়গুলোর চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ । যে সকল বিষয় জিহাদকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন করে তার সবকিছুই রহিত হয়ে যাবে। মুসলিম উম্মতের বিপক্ষে কাফেরদের সুবিধার জন্য শরিয়তের দলীল ব্যাবহার কারার কোন সুযোগ নেই।' (দেখুনঃ ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়াহ, ২৮/৫৩৭ ও ২০/৫২, আল হাশিয়া আলা আর রাওধ, ৪/২৭১, আল হিদায়া (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ জিহাদ, ২/৪৩২, ও এই বিষয়ে শাইখ আব্দুর রহমান রহিঃ এর বিস্তারিত ফতোয়া)
একটি বিষয় চিন্তা করুন — ‘সেসব মুসলিম দের কি ঐ সমস্থ জায়গায় থাকার কথা?’ ‘তার দ্বীন যে ভূমিতে হুমকির মুখে সেখানে বসবাস করা কি তাদের জন্য জায়েজ?’ ‘তাদের কি হিজরত করা উচিত নয়?’ — সত্যিটা হচ্ছে তারা দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন। ‘জায়েজ নাকি নাজায়েজ’ এতে তাদের কিছু যায় আসে না।’
একটি হাদিস দেখুন- আবুল আসওয়াদ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত,
عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيْدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَغَيْرُهُ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْأَسْوَدِ قَالَ قُطِعَ عَلَى أَهْلِ الْمَدِيْنَةِ بَعْثٌ فَاكْتُتِبْتُ فِيْهِ فَلَقِيْتُ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَنَهَانِيْ عَنْ ذَلِكَ أَشَدَّ النَّهْيِ ثُمَّ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ كَانُوْا مَعَ الْمُشْرِكِيْنَ يُكَثِّرُوْنَ سَوَادَ الْمُشْرِكِيْنَ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي السَّهْمُ فَيُرْمَى بِهِ فَيُصِيْبُ أَحَدَهُمْ فَيَقْتُلُهُ أَوْ يُضْرَبُ فَيُقْتَلُ فَأَنْزَلَ اللهُ : {إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ}الآيَةَ رَوَاهُ اللَّيْثُ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ.
“রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যেসব মুসলিম মুশরিকদের সঙ্গে ছিল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল, মাঝে মাঝে এমনও হত যে, তাদের কেউ কেউ মুসলিমদেরই তীরের আঘাতে নিহত হতো বা তাদেরকে হত্যা করা হত। তখন আল্লাহ তা‘আলা — … إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ ‘নিশ্চয় যারা নিজদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে’? তারা বলে, ‘আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম’। ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে’? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা নিসা ৯৭) আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।” (সহীহ বুখারী ৪৫৯৬, মান সহিহ)
হাদিসে এসেছে- জারীর আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
«أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ الْمُشْرِكِينَ»
‘আমি ঐসব মুসলিমের উপর অসন্তুষ্ট ও রুষ্ট যারা মুশরিকদের মধ্যে অবস্থান করে।’ (বুলুগুল মারাম ১২৬৪, মান: সহিহ, এ বিষয়ে আরো দেখুন- জামে’ আত-তিরমিজি ১৬০৪, মান: সহিহ, আবু দাউদ ২৭৮৭, মান: সহিহ)
নোট- এটি প্রকাশিত অফিসিয়াল ফতোয়া নয়, কিছু দলীল ভিত্তিক সরল বাক্য মাত্র।
- Sharia Law
রাসুল (সাঃ) বদদোয়া করেছেন?
December 14 2023
345
করযে হাসানা : কিছু নির্দেশনা
December 05 2023
292
বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?
December 01 2023
291
কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?
December 11 2023
283
‘এরা এমন এক কালসাপ, যার বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলা না হলে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডেও ছোবল বসাবে’
December 02 2023
252
ফিলিস্তিন সংকট : স্বদেশ ও বিদেশ
December 03 2023
252
কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান
December 14 2023
233
গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!
December 01 2023
232
হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
December 05 2023
222
ঈদের নামায স্থানীয়ভাবে আদায় করবো? না সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে?
December 03 2023
215