কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান
অমুসলিম দেশে ৯/১১ এর মত হামলার মাসালা হল- ‘যদি হামলা করা জরুরী হয়ে পরে, কাফিররা যদি ঐ স্থানে থাকা মুসলিমদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে আর কুফফারদের দল থেকে যদি মুসলিমদের আলাদা করা সম্ভব না হয়, তবে ইমামদের বক্তব্য অনুসারে তাদেরসহ কুফফারদের উপড়ে হামলা করা বৈধ। পরকালে তারা যার যার নিয়ত অনুযায়ী উঠবে। মুসলিমরা সেখানে অবস্থান করে বলে জিহাদ বন্ধ রাখা হবে না। জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি যে অন্যান্য বিষয়গুলোর চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ । যে সকল বিষয় জিহাদকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন করে তার সবকিছুই রহিত হয়ে যাবে। মুসলিম উম্মতের বিপক্ষে কাফেরদের সুবিধার জন্য শরিয়তের দলীল ব্যাবহার কারার কোন সুযোগ নেই।' (দেখুনঃ ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়াহ, ২৮/৫৩৭ ও ২০/৫২, আল হাশিয়া আলা আর রাওধ, ৪/২৭১, আল হিদায়া (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ জিহাদ, ২/৪৩২, ও এই বিষয়ে শাইখ আব্দুর রহমান রহিঃ এর বিস্তারিত ফতোয়া)
একটি বিষয় চিন্তা করুন — ‘সেসব মুসলিম দের কি ঐ সমস্থ জায়গায় থাকার কথা?’ ‘তার দ্বীন যে ভূমিতে হুমকির মুখে সেখানে বসবাস করা কি তাদের জন্য জায়েজ?’ ‘তাদের কি হিজরত করা উচিত নয়?’ — সত্যিটা হচ্ছে তারা দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন। ‘জায়েজ নাকি নাজায়েজ’ এতে তাদের কিছু যায় আসে না।’
একটি হাদিস দেখুন- আবুল আসওয়াদ মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহ.) থেকে বর্ণিত,
عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيْدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ وَغَيْرُهُ قَالَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْأَسْوَدِ قَالَ قُطِعَ عَلَى أَهْلِ الْمَدِيْنَةِ بَعْثٌ فَاكْتُتِبْتُ فِيْهِ فَلَقِيْتُ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَأَخْبَرْتُهُ فَنَهَانِيْ عَنْ ذَلِكَ أَشَدَّ النَّهْيِ ثُمَّ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ كَانُوْا مَعَ الْمُشْرِكِيْنَ يُكَثِّرُوْنَ سَوَادَ الْمُشْرِكِيْنَ عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي السَّهْمُ فَيُرْمَى بِهِ فَيُصِيْبُ أَحَدَهُمْ فَيَقْتُلُهُ أَوْ يُضْرَبُ فَيُقْتَلُ فَأَنْزَلَ اللهُ : {إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ}الآيَةَ رَوَاهُ اللَّيْثُ عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ.
“রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যেসব মুসলিম মুশরিকদের সঙ্গে ছিল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল, মাঝে মাঝে এমনও হত যে, তাদের কেউ কেউ মুসলিমদেরই তীরের আঘাতে নিহত হতো বা তাদেরকে হত্যা করা হত। তখন আল্লাহ তা‘আলা — … إِنَّ الَّذِيْنَ تَوَفّٰهُمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ ظَالِمِيْٓ أَنْفُسِهِمْ ‘নিশ্চয় যারা নিজদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে’? তারা বলে, ‘আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম’। ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে’? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল। (সূরা নিসা ৯৭) আয়াতটি অবতীর্ণ করেন।” (সহীহ বুখারী ৪৫৯৬, মান সহিহ)
হাদিসে এসেছে- জারীর আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
«أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ الْمُشْرِكِينَ»
‘আমি ঐসব মুসলিমের উপর অসন্তুষ্ট ও রুষ্ট যারা মুশরিকদের মধ্যে অবস্থান করে।’ (বুলুগুল মারাম ১২৬৪, মান: সহিহ, এ বিষয়ে আরো দেখুন- জামে’ আত-তিরমিজি ১৬০৪, মান: সহিহ, আবু দাউদ ২৭৮৭, মান: সহিহ)
নোট- এটি প্রকাশিত অফিসিয়াল ফতোয়া নয়, কিছু দলীল ভিত্তিক সরল বাক্য মাত্র।