লিখুন ডট কম || ০৮ জুন ২০২৬

প্রশ্নোত্তর

'গান-বাজনা হারাম' — এই কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? গান বাদ্যযন্ত্র কি হারাম?

April 01 2025

108

আমল ও আত্মশুদ্ধি

'গান-বাজনা হারাম' — এই কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? গান বাদ্যযন্ত্র কি হারাম?

নবী (ﷺ ) বলেন, “অবশ্যই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য মদ, জুয়া, ঢোল তবলা এবং বীণা-জাতীয় বাদ্যযন্ত্রকে হারাম করেছেন।” [আহমাদ ৬৫৪৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৭০৮] “অবশ্যই আমার উম্মতের মাঝে (কিছু লোককে) মাটি ধসিয়ে, পাথর বর্ষণ করে এবং আকার বিকৃত করে (ধ্বংস করা) হবে। আর এ শাস্তি তখন আসবে, যখন তারা মদ পান করবে, নর্তকী রাখবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।” [সহীহুল জামে’ ৩৬৬৫, ৫৪৬৭] "মদের মূল্য হারাম, ব্যভিচারের উপার্জন হারাম, কুকুরের মূল্য হারাম, তবলা হারাম।" [ত্বাবারানী ১২৪৩৫, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৮০৬] "ঘন্টা বা ঘুঙুর হল শয়তানের বাঁশি।" [মুসলিম ২১১৪, আবূ দাঊদ ২৫৫৬, আহমাদ ২/৩৬৬, ৩৭২, বাইহাকী ৫/২৫৩] রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহ-পরকালে দুটি শব্দ-ধ্বনি অভিশপ্ত; সুখ ও খুশীর সময় বাঁশীর শব্দ এবং মসীবত, শোক ও কষ্টের সময় হা-হুতাশ ধ্বনি। [বাযযার ৭৫১৩, সহীহুল জামে’ ৩৮০১, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪২৭] ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ঢোলক হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম, তবলা হারাম এবং বাঁশীও হারাম। [বাইহাকী ২০৭৮৯] হাসান বাসরী (রঃ) বলেন, ঢোলক মুসলিমদের ব্যবহার্য নয়। আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদের সহচরগণ ঢোলক দেখলে ভেঙ্গে ফেলতেন। [দেখুন, তাহরীমু আলাতুত ত্বারব, আলবানী ১০৩-১০৪ পৃঃ] আল্লাহর রাসূল (ﷺ ) অন্যত্র বলেছেন, ''অবশ্যই অবশ্যই আমার উম্মাতের মধ্য হতে এমন কিছু গোষ্ঠি তৈরি হবে, যারা যেনা-ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।'' [সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৫৯০] হাদীসে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বাদ্যযন্ত্র হারাম। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘বৈধ মনে করবে’, তার মানে তিনি বুঝিয়েছেন এটা অবৈধ, এরপর লোকেরা একে বৈধ বানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাহাবী ও তাবেয়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী বহু গুনাহর সমষ্টি হল গান ও বাদ্যযন্ত্র। যথা: • ক) নিফাক এর উৎস • খ) ব্যভিচারের প্রেরণা জাগ্রতকারী • গ) মস্তিষ্কের উপর আবরণ • ঘ) কুরআনের প্রতি অনিহা সৃষ্টিকারী • ঙ) আখিরাতের চিন্তা নির্মূলকারী • চ) গুনাহের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ও • ছ) জিহাদী চেতনা বিনষ্টকারী। [ইগাছাতুল লাহফান ১/১৮৭] শাইখুল ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিঃ) বলেন, “যে সকল কাজ শয়তানের পথকে শক্তিশালী করে তাদের মধ্যে গান বাজনা শোনা এবং অন্যায় হাসি তামাশা অন্যতম। এটা সেই কাজ যা কাফেররা করত। তিনি আরো বলেন, গান হচ্ছে অন্তরের মদ।” [মাজমু'ঊ ফাতাওয়া : ১০/৪১৭] গান ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ.-অভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। সকলেই গান-বাদ্যকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন- ইমাম মালেক রাহ. কে গান-বাদ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেবল ফাসিকরাই তা করতে পারে। (কুরতুবী ১৪/৫৫) ইমাম শাফেয়ী রাহ. বলেছেন যে, গান-বাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি হল আহমক। তিনি আরো বলেন, সর্বপ্রকার বীণা, তন্ত্রী, ঢাকঢোল, তবলা, সারেঙ্গী সবই হারাম এবং এর শ্রোতা ফাসেক। তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। (ইগাছাতুল লাহফান ১/১৭৯; কুরতুবী ১৪/৫৫) হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ আল্লামা আলী মারদভী লেখেন, বাদ্য ছাড়া গান মাকরূহে তাহরীমী। আর যদি বাদ্য থাকে তবে তা হারাম। (আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩৮৮) ইমাম শাফেয়ী রাহ. শর্তসাপেক্ষে শুধু ওলীমা অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশ আছে বলে মত দিয়েছেন। কেননা বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্যে ওলীমার অনুষ্ঠানে দফ বাজানোর অবকাশের বর্ণনা হাদীসে রয়েছে।-জামে তিরমিযী হাদীস : ১০৮৯; সহীহ বুখারী হাদীস : ৫১৪৭, ৫১৬২ মনে রাখতে হবে, এখানে দফ বাজানোর উদ্দেশ্য হল বিবাহের ঘোষণা, অন্য কিছু নয়। (ফাতহুল বারী ৯/২২৬) ‘তোর আওয়াজ দ্বারা তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস পদস্খলিত কর।’ (সূরা ইসরা ৬৪) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে সেটাই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ (রাহি.) বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহি.) বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যেসব বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তার মধ্যে গান-বাদ্যই সেরা। এজন্যই একে ইবলিসের আওয়াজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (ইগাছাতুল লাহফান ১/১৯৯) ইমাম ইবন তাইমিয়া (রাহি.) আরো বলেন সেই ব্যক্তির সম্পর্কে যার স্বভাব হল গান-বাজনা শোনা, ‘সে যখন কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করে তখন সে আবেগাপ্লুত হয় না, অপরদিকে সে যখন শয়তানের বাদ্যযন্ত্র (গান-বাজনা) শ্রবণ করে, সে নেচে উঠে। যদি সে সালাত প্রতিষ্ঠা করে, তবে সে হয় বসে বসে তা আদায় করে অথবা মুরগী যেভাবে মাটিতে ঠোকর দিয়ে শস্যদানা খায় সেভাবে দ্রুততার সাথে আদায় করে। সে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করতে অপছন্দ করে এবং তাতে কোন সৌন্দর্য খুঁজে পায় না। কুরআনের প্রতি তার কোন রুচি নেই এবং যখন তা পড়া হয় সে এর প্রতি কোন টান বা ভালোবাসা অনুভব করে না। বরং, সে মু’কা (শিষ দেয়া) ও তাসদিয়া (তালি দেয়া) শুনে মজা পায়। এগুলো শয়তানী আনন্দ এবং সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে একটি শয়তান নিযুক্ত করে দেই, অতঃপর সে সর্বক্ষণ তার সাথী হয়ে থাকে”। (আউলিয়া আর রাহমান)

December 14 2023

344

দ্বীনিয়াত ও শিক্ষা

রাসুল (সাঃ) বদদোয়া করেছেন?

অনেকের একটি ধারণা রয়েছে যে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কখনো কারো জন্য বদদোয়া করেন নাই। এটি একটি ভুল ধারণা। তিনি যালিম কাফিরদের গোত্রের নাম ধরে এবং কাফিরদের নাম ধরে উভয়ভাবেই বদদোয়া করেছেন এবং কিছু বদামলের জন্য বদকার-মুসলিমদেরও লানত করেছেন। তাই যালিম কাফের দেশের বা গোত্রের নাম ধরে বা কাফিরদের নাম ধরে বদদোয়া করা যাবে যা হাদিস থেকে প্রমাণিত। হা তিনি অযথা কোন মুসলিমকে অভিশাপ, লানত করেন নাই এবং নিষেধ করে গেছেন। নিচের হাদিসগুলো দেখুন তাহলেই বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে- ১। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, مُحَمَّدٌ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِيْ مِجْلَزٍ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَنَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ الرُّكُوْعِ شَهْرًا يَدْعُوْ عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَيَقُوْلُ عُصَيَّةُ عَصَتْ اللهَ وَرَسُوْلَهُ নবী (সাঃ) এক মাস ব্যাপী সলাতে রুকুর পরে কুনূত পাঠ পড়েছেন। এতে তিনি রি‘ল, যাকওয়ান গোত্রের জন্য বদদু‘আ করেছেন। তিনি বলেন, উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাঁর রসুলের অবাধ্যতা করেছে। (সহিহ বুখারী ৪০৯৪, মান: সহিহ) ২। আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, إِسْحَاقُ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبِيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ مَلَا اللهُ عَلَيْهِمْ بُيُوْتَهُمْ وَقُبُوْرَهُمْ نَارًا كَمَا شَغَلُوْنَا عَنْ صَلَاةِ الْوُسْطَى حَتَّى غَابَتْ الشَّمْسُ নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি খন্দকের যুদ্ধের দিন বদদু’আ করে বলছিলেন, আল্লাহ তাদের ঘরবাড়ি ও কবর আগুন দ্বারা ভরে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী সলাতের সময় ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে। (সহিহ বুখারী ৪১১১, মান: সহিহ) ৩। উবাইদ ইবনে রিফাআ আয-যুরাকী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ، وَيُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ، وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ. اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ، إِلَهَ الْحَقِّ" রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়া করেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি কাফেরদের ধ্বংস করো, যারা তোমার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তোমার ক্রোধ ও আযাব তাদের উপর অবতীর্ণ করো। হে আল্লাহ! কিতাবপ্রাপ্ত কাফেরদের ধ্বংস করো। হে সত্য ইলাহ”। (আদাবুল মুফরাদ ৭০৪ নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, মান: সহিহ)

December 14 2023

177

ব্যবসা ও লেনদেন

পিতার হারাম সম্পত্তির/টাকার/উপার্জনের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে ফতোয়া

প্রশ্ন: পিতার উপার্জনে যদি হালাল হারাম মিশ্রিত থাকে তাহলে কি ঐ সম্পদ উত্তরাধিকার হওয়া কি বৈধ হবে? উত্তর: بسم الله الرحمن الرحيم ''যতটুকু সম্পদ হারাম তা ব্যতিত হালাল মালের উত্তারিধকার সন্তানগণ হবে। যে পরিমাণ টাকা হারাম তা মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে, সক্ষম না হলে দান করে দিতে হবে।'' وفى رد المحتار ج: 2 ص: 292 (طبع سعيد) ان المراد ليس هو نفس الحرام ام لأنه ملكه بالخلط وانما الحرام التصرف فيه قبل اداء بدله….. نعم لا يباح الانتفاع به قبل أداء البدل فى الصحيح من المذهب، وكذا فى الطحطاوى على الدر المختار-4/192. وفى الهندية- ج/349 (طبع مكتبة رشيدية) والسبيل فى المعاصى ردها وذلك ههنا برد المأخوذ ان تمكن من رده بان عرف صاحبه…. الخ. وفى رد المحتار-5/99 (طبع سعيد) والحاصل أنه ان علم أرباب الأموال وجب رده عليهم والا فان علم عين الحرام لا يحل له ويتصدق به بنية صاحبه… وبعد اسطر …… ومفاده الحرمة وان لم يعلم أربابه وينبغى تقييده بما اذا كان عين الحرام ليوافق ما نقلناه اذ لو اختلط بحيث لا يتميز لملكه ملكا خبيثا لكن لا يحل له التصرف فيه ما لم يؤد بدله الخ وفى الدر المختار-6/182 (سعيد) ويجب رد عين المغصوب فى مكان غصبه ويبرأ بردها ولو بغير علم المالك….. أو يجب رد مثله ان هلك وهو مثلى، وفى رد المحتار-6/385- ويردونها على أربابها ان عرفوهم والا تصدقوا بها لان سبيل الكسب الخبيث التصدق اذا تعذر الرد على صاحبه، মিরাছ হবার জন্য উক্ত সম্পদের মালিক হতে হয়, আর আপনার পিতা হারাম মাল নিজের করায়ত্বে রাখলেও তার মালিক তিনি প্রকৃত অর্থে ছিলেনই না, তাই এর মিরাছও জারি হবে না। উত্তর দিয়েছেন- মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন- বাবার হারাম উপার্জন সন্তানের জন্য গ্রহন করার বিধান- মুফতী সাহেব ! আমাকে একটি সমস্যা থেকে উদ্ধার করেন ৷ আমি খুব বিপদে আছি ৷ আমি কলেজ স্টুডেন্ট ৷লেখা পড়ার সব খরচ বাবা বহন করেন ৷ কিন্তু বাবার উপার্জন সব হারাম পন্থায় ৷ বাবাকে অনেক বুঝানো হয়েছে ৷ কিন্তু বাবা মানছে না ৷ জানার বিষয় হলো, আমি আমার বাবা থেকে খরচ নিতে পারবো কি না? উত্তর: 'হারাম উপার্জনকারী পিতার কামাই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের জন্য ভোগ করা বৈধ নয় ৷ সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি নিজে উপার্জন করে খরচ চালানোর মত সামর্থ থাকলে আপনার বাবার হারাম পন্থায় উপার্জিত টাকা-পায়সা নেয়া আপনার জন্য বৈধ হবে না ৷ তবে যদি নিজে উপার্জন করার মত সামর্থ না থাকে, প্রয়োজন পরিমান আপনার বাবা থেকে টাকা-পয়সা নিতে পারবেন ৷ প্রয়োজন অতিরিক্ত নেয়া বৈধ নয়৷' (ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন ২/১৪৭, ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩৪২; ফতাওয়ায়ে শামী ৬/২৪৭) মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷ - Sharia Law

December 11 2023

282

ঈমান-আকীদা

কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: “নিশ্চয় তুমি মৃতকে শুনাতে পারবে না, আর তুমি বধিরকে আহ্বান শুনাতে পারবে না, যখন তারা পিঠ ঘুরিয়ে চলে যায়।” [সূরা আন-নামল- ২৭:৮০] “আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না।” [সূরা আল-ফাতির- ৩৫:২২] যারা বলেন ‘মৃতরা শুনতে পায় না’ তাঁদের প্রাথমিক প্রমাণ হলো কুরআনের এই দুটো আয়াত। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ঠভাবে বলছেন- তুমি মৃতকে শুনাতে পারবে না। এখন আমরা দেখবো হাদীসে কী আছে। বদর যুদ্ধ শেষে কাফিরদের লাশগুলোকে দাফন করা হয়। লাশ দাফন শেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের নামধরে ডাকতে থাকেন। নামধরে ডেকে তিনি সূরা আরাফের ৪৪ নাম্বার আয়াত তেলাওয়াত করেন- “তোমাদের সাথে রব যে ওয়াদা করেছেন, তা তোমরা বাস্তবে পেয়েছো?” এটা দেখে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বেশ অবাক হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মৃতদেরকে ডেকে কথা বলছেন?” অর্থাৎ, তারা তো মৃত। আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? উমরের (রা:) প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন (ভাবানুবাদ), “তোমরা যেমন আমাকে শুনছো, তারাও ঠিক আমাকে শুনছে; কিন্তু তারা জবাব দিতে পারছে না।” [সহীহ বুখারী: ১৩৭০]

বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?

December 01 2023

291

নিকাহ-তালাক

বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?

অতএব, মোহর টাকা দিয়ে যেমন আদায় করা যায়, তেমনি স্বর্ণ-গয়না দিয়েও আদায় করা যায়। স্বর্ণ গয়না দেয়ার সময় যদি তা মোহরের নিয়ত করে দেন, তবে তা মোহর হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং মোহরের অংক থেকে তার মূল্য পরিমাণ কাটা যবে। অতএব, মোহর টাকা দিয়ে যেমন আদায় করা যায়, তেমনি স্বর্ণ-গয়না দিয়েও আদায় করা যায়। স্বর্ণ গয়না দেয়ার সময় যদি তা মোহরের নিয়ত করে দেন, তবে তা মোহর হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং মোহরের অংক থেকে তার মূল্য পরিমাণ কাটা যবে। অতএব, মোহর টাকা দিয়ে যেমন আদায় করা যায়, তেমনি স্বর্ণ-গয়না দিয়েও আদায় করা যায়। অতএব, মোহর টাকা দিয়ে যেমন আদায় করা যায়, তেমনি স্বর্ণ-গয়না দিয়েও আদায় করা যায়। স্বর্ণ গয়না দেয়ার সময় যদি তা মোহরের নিয়ত করে দেন, তবে তা মোহর হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং মোহরের অংক থেকে তার মূল্য পরিমাণ কাটা যবে। অতএব, মোহর টাকা দিয়ে যেমন আদায় করা যায়, তেমনি স্বর্ণ-গয়না দিয়েও আদায় করা যায়। স্বর্ণ গয়না দেয়ার সময় যদি তা মোহরের নিয়ত করে দেন, তবে তা মোহর হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং মোহরের অংক থেকে তার মূল্য পরিমাণ কাটা যবে। অতএব, মোহর টাকা দিয়ে যেমন আদায় করা যায়, তেমনি স্বর্ণ-গয়না দিয়েও আদায় করা যায়।