সিয়ার
ধর্ষণের শাস্তির জন্য চারজন সাক্ষ্য লাগবে? ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি দিতে সাক্ষ্য প্রমাণ নীতি। ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি।
আবু আব্দুল্লাহ | March 08 2025 | 168শাস্তি
ধর্ষণের শাস্তি ও যেনা বা ব্যভিচারের শাস্তির মধ্যে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। যেনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হ’লে তার শাস্তি -
“বিবাহিত পুরুষ ও নারীর জন্য প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদন্ড ও অবিবাহিতদের জন্য একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছর নির্বাসন” (নূর ২৪/০২; বুখারী হা/৪৯৬৯; মুসলিম হা/১৬৯১; মিশকাত হা/৩৫৫৫)
কিন্তু ধর্ষণ যেহেতু যিনার মত দুজনের সম্মতিতে হয় না তাই এক্ষেত্রে যিনার শাস্তির সাথে মুহারাবার শাস্তি যুক্ত হবে। কেবলমাত্র ধর্ষকের শাস্তি হবে। মুহারাবার শাস্তি হলো — অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতির যে শাস্তি তাই। মুহারাবার শাস্তির ব্যাপারে কোরআন পাকে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন,
যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে, তাদেরকে হত্যা করা হবে, অথবা শূলে চড়ানো হবে, অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেওয়া হবে, অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হলো — তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (সুরা মায়িদা ৩৩)
যখন সমাজে ধর্ষণ মহামারি রূপ ধারণ করে, তখন সমাজকে কলুষমুক্ত করতে মুহারাবার মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া জরুরি। কাজী তাকে রজম করতে নির্দেশ দিতে পারবে। আর ধর্ষণের কারণে অথবা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে তার একমাত্র শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড প্রদান।
সাক্ষ্য প্রমাণ
ধর্ষণ সাধারণ জিনার মতো নয়, বরং এটি বলপ্রয়োগ এবং সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর শর্ত ছাড়া অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণযোগ্য। চারজন সাক্ষী ছাড়াও ফরেনসিক ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্ষণের বিচার সম্ভব। নারীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে (ধর্ষণের) বিচার-
আলকামা ইবনু ওয়াইল (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে,
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় একজন মহিলা নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো। রাস্তায় একজন লোক তার সামনে পড়ে এবং সে তাকে তার পোশাকে ঢেকে নিয়ে (জাপটে ধরে) নিজের প্রয়োজন মিটায় (ধর্ষণ করে)। মহিলাটি চিৎকার করলে লোকটি পালিয়ে গেল।
তারপর আর একজন লোক তার সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। ইতোমধ্যে মুহাজির সাহাবীদের একটি দলও সে স্থান দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি বলল, ঐ লোকটি আমার সাথে এই এই করেছে। যে লোকটি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে সে ধারণা করল, তারা (দৌড়ে) গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন। তাকে নিয়ে তারা মহিলাটির সামনে ফিরে আসলে সে বলল, হ্যাঁ, এই সেই লোক।
তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাকে নিয়ে আসেন। তিনি যখন তাকে রজমের (পাথর মেরে হত্যা) হুকুম দিলেন, সে সময়ে তার আসল ধর্ষণকারী উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তার ধর্ষণকারী (ঐ লোকটি নয়)।
তিনি মহিলাটিকে বললেনঃ যাও, তোমাকে আল্লাহ তা’আলা মাফ করে দিয়েছেন। তিনি (সন্দেহজনকভাবে) ধৃত লোকটির সম্বন্ধে ভাল কথা বললেন।
মহিলাটির আসল ধর্ষণকারীর সম্পর্কে তিনি হুকুম করলেনঃ একে রজম কর।
তিনি আরো বললেনঃ সে এমন ধরণের তাওবা করেছে, যদি মদীনার সকল জনগণ এমন তাওবা করে তবে তাদের সেই তাওবা কুবুল করা হবে।”
[তিরমিজি: ১৪৫৪, হাসান]
এটি একটি দৃষ্টান্ত। এছাড়াও ওমর (রা.) এর যুগে সাক্ষী ছাড়া ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয়েছে। শরীরের চিহ্ন, কাপড়ের দাগ, সন্দেহভাজন ব্যক্তির আচরণ ইত্যাদির ভিত্তিতে অপরাধের শাস্তি দিয়েছেন।
এখন তো মেডিকেল টেস্ট, DNA টেস্ট সিসিটিভি সহ্য কত রকম প্রমাণ থাকে। এগুলো নিয়ে টেনশন নেই।
মূলনীতি হল নিরপরাধ কেও যেন শাস্তি না পায়। এবং ধর্ষকের যেন কঠোর বিচার দ্রুত কার্যকর করা হয়। (আব্দিল বার্র, আল-ইস্তিযকার ৭/১৪৬)
— Sharia Law
রাসুল (সাঃ) বদদোয়া করেছেন?
December 14 2023
365
করযে হাসানা : কিছু নির্দেশনা
December 05 2023
309
বর্তমান সময়ে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহরে ফাতেমী কত টাকা?
December 01 2023
307
কবরে শুয়ে মৃতরা কি শুনতে পায়?
December 11 2023
302
‘এরা এমন এক কালসাপ, যার বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলা না হলে অন্যান্য মুসলিম ভূখণ্ডেও ছোবল বসাবে’
December 02 2023
269
ফিলিস্তিন সংকট : স্বদেশ ও বিদেশ
December 03 2023
268
গাজায় ইসরাইলের বর্বরতা গাজাবাসীর জন্য দুফোঁটা অশ্রু!
December 01 2023
250
কাফের দেশে স্থায়ী বসবাস সম্পর্কে ইসলামের বিধান
December 14 2023
249
হিজাব-নিকাব হিজাবের মর্যাদা রক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
December 05 2023
238
ঈদের নামায স্থানীয়ভাবে আদায় করবো? না সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে?
December 03 2023
235