ঈমান-আকীদা

এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দিবে

আবু আব্দুল্লাহ | August 02 2025 | 87

নাবি আলাইসিস সালাম যখন কাকুতিমিনতি করবেন, তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন —
.
‎فَيَقُولُ: وَعِزَّتِي وَجَلاَلِي، وَكِبْرِيَائِي وَعَظَمَتِي لَأُخْرِجَنَّ مِنْهَا مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
.
“আমার ইজ্জত‌ ও পরাক্রম এবং আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের শপথ! যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, আমি অবশ্যই অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।” [বুখারি-৭৫১০, মুসলিম-১৯৩]
.
‎عن حذيفة بن اليمان، قال: قال رسول الله — صلى الله عليه وسلم -: “يدرس الإسلام كما يدرس وشي الثوب، حتى لا يدرى ما صيام ولا صلاة ولا نسك ولا صدقة…وتبقى طوائف من الناس، الشيخ الكبير والعجوز، يقولون: أدركنا آباءنا على هذه الكلمة: لا إله إلا الله، فنحن نقولها”.
.
“হুজায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন — ইসলাম মুছে যাবে যেভাবে কাপড়ের নকশা (ধীরে ধীরে) মুছে যায়। শেষমেশ এমন হবে যে, মানুষ জানবেই না সিয়াম কী সালাত কী, কুরবানি কী, সাদাকাহ কী।… তখন একদল বৃদ্ধ নারী-পুরুষ থাকবে, যারা বলবে: আমরা আমদের পিতৃপুরুষদের এই কালিমা তথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’র ওপর পেয়েছি। তাই আমরাও এটিই বলি।
.
‎فقال له صلة : ما تغني عنهم لا إله إلا الله، وهم لا يدرون ما صلاة ولا صيام ولا نسك ولا صدقة؟ فأعرض عنه حذيفة، ثم ردها عليه ثلاثا، كل ذلك يعرض عنه حذيفة، ثم أقبل عليه في الثالثة، فقال:يا صلة، تنجيهم من
‎النار، ثلاثا
.
তখন তাবেঈ সিলাহ বিন যুফার রাহ. হুজায়ফা রা-কে বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” তাদের কী কজে আসেব, যখন তারা জানবেই না যে, সালাত কী, সিয়াম কী, কুরবানি কী? হুজায়ফা রা. তার উত্তর না-দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সিলাহ তিন বার এ প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করলেন। হুজায়ফা প্রত্যেকবার তার প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন। তৃতীয় বারে তিনি তার দিকে ফিরে বলেন: হে সিলাহ! এই কালিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে রেহাই দেবে। তিনি কথাটি তিন বার বললেন।” [ইবনু মাজাহ — ৪০৪৯ মান: সহিহ]
.
“আনাস রা. থেকে বর্ণন, নাবি আলাইসিস সালাম বলেন —
.
‎عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «يَقُولُ اللهُ: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْمًا» أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ.
.
আল্লাহ বলবেন, জাহান্নাম থেকে তাকেও বের করে আনো, যে কোনো একদিন আমাকে স্মরণ করেছে বা কোনো একস্থানে আমাকে ভয় পেয়েছে।”
[তিরমিজি — ২৫৯৪, আস-সুন্নাহ, ইবনু আবি আসিম — ৮৩৩, মানঃ হাসান]
.
নাবি আলাইসিস সালাম বলেন —
.
‎مَا مِنْ عَبْدٍ يَشْهَدُ أَن لاَ إلهَ إلاَّ الله وَأنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ إلاَّ حَرَّمَهُ الله عَلَى النَّار قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ أفَلاَ أُخْبِرُ بِهَا النَّاس فَيَسْتَبْشِرُوا ؟ قَالَ إِذاً يَتَّكِلُوا فأخبر بِهَا مُعاذٌ عَندَ موتِه تَأثُّما.
.
“যে কোন বান্দা খাঁটি মনে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ (সত্য) উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা. তাঁর বান্দা ও তাঁর রসূল, তাকে আল্লাহ তা’আলা দোযখের জন্য হারাম করে দেবেন। মুআজ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকেদেরকে এই খবর বলে দেব না, যেন তারা (শুনে) আনন্দিত হয়? তিনি বললেন, তাহলে তো তারা (এর উপরই) ভরসা করে নেবে (এবং আমল ত্যাগ করে বসবে)। অতঃপর মুআজ (ইলম গোপন রাখার) পাপ থেকে বাঁচার জন্য তাঁর মৃত্যুর সময় (এ হাদীসটি) জানিয়ে দিয়েছিলেন।” [বুখারী ১২৮, মুসলিম ১৫৭]
.
আর এ দিক বিবেচনায় জুমহুর আয়িম্মায়ে কেরাম আমলের গুরুত্ব বুঝাতে এবং আমলের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত রাখতে তা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, রুকনে আসলি বা মৌলিক অংশ হিসেবে নয়।” — মোহাম্মদ আব্দুল হক হাফি.
.
আরেকটি মজবুত দলীল হল ঐ হাদিস যেখানে আল্লাহ কিয়ামতের মাঠে একজনকে তার ৯৯টি গুনাহের খাতা দেখাবেন যার কালিমা ছাড়া আর কোন নেক আমল ছিল না। কালেমা নিজেই একটি আমল। তাওহীদ নিজেই একটি লাগাতার আমল। যা তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়া থেকে আটকাবে। হাদীস সহীহ : তিরমিযী হা/২৬৩৯

ইবনু আবি যাইদ রহি. সহ আরও কিছু ফকিহ দাবী করেন যে যুহুদ (অস্বীকার) ব্যতীত ফরজসমূহ তরককারী কাফের নয় বরং ফাসেক৷ ইজমায়ে উম্মাহ হলো — তাদের জানাজা পড়ানো হবে, ইসলাম অনুযায়ী তাদের মিরাস বন্টিত হবে এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে৷ (শরহে বুখারী লি ইবনি বাত্তলঃ8/579)

প্রসঙ্গ: ঈমান-আকীদা